প্রাক্‌-মনুষ্য, মনুষ্য ও মনুষ্যেতর

“এঃ শালা, ইভোলিউশনে একধাপ আগে এগিয়ে গিয়ে হেব্বি রোয়াব দেখাচ্ছিস, না? তোরা সবকটা শালা একরকম! আমরা কি কখনও উঁকি দিয়ে দেখতে যাই, যে তোরা কি করছিস? তাহলে আমাদের বিষয়ে তোদের এত কৌতূহল কেন? এতই যদি কৌতূহল, তাহলে আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়া! দাঁত কেলিয়ে দেখেই আবার সরে পড়লি যে বড়? দাঁড়া, তোর হচ্ছে! যাচ্ছি আমি তোর সামনে, এবারে দেখি তোর কত দম!”

***

“কেলো করেছে রে! বেশ তো দূরে দূরে ছিলি, আবার আমার সামনে এসে বসলি কেন? ওরেবাবা রে, আবার দাঁত খিঁচাচ্ছে! কেন যে শালা মরতে উঁকি দিয়েছিলাম! পাশের রুমের জাম্বুবানটাই যত্ত নষ্টের গোড়া! আধদামড়া মিনশে, ভাল্লুকের মতন লোম নিয়ে পাবলিক প্লেসে খালি গায়ে বসে থাকতে লজ্জা করে না? ওর গলা শুনেই তো…কি করি এখন? কোনদিকে যাব? এগোনোর তো কোনো প্রশ্নই নেই, পিছিয়ে যে যাব, সে পথও যে নিজের হাতেই বন্ধ করে দিয়েছি। হে ভগবান…”

***

“দু পেয়ে জাতটাই ঢ্যামনা আর স্বার্থপর! একটু আগেই ক্যামেরার ফ্রেমে চলে গিয়েছিলাম বলে ঢিল তুললো মারবে বলে? ওই তো বদন, তার আবার ছবি, ছোঃ! ঠিক হয়েছে শালার! ওঃ, মুখখানা যা হয়েছে না, বলবার নয়। এই ফটোটাই তোলা উচিত ছিল। মরুকগে, আমি মটকা মেরে পড়ে থাকি। কিন্তু…ওফ্‌, কে যে শালা এই ‘প্রভুভক্ত’ ট্যাগটা নামের সঙ্গে লটকেছিল, ঠ্যালা সামলাতে যে হেদিয়ে গেলাম! প্রভুর হুকুম, এই বিটকেল দু-পেয়েগুলোর ‘মেন্টাল পিস’ যেন নষ্ট না হয় – প্রভুর অমান্য হই কি করে? নাঃ, উঠি, মাকালটার একটা হিল্লে করি গিয়ে। চল রে ভুলো।”

অতঃপর, সারমেয়দ্বয় গর্জন করিয়া শাখামৃগের দিকে ধাবিত হইল। সেই গর্জনে ভীতসন্ত্রস্ত হইয়া শাখামৃগটি ভূমি ছাড়িয়া লম্ফ দিয়া অলিন্দ-সংলগ্ন একটি স্তম্ভ ধরিয়া ঝুলিয়া পড়িল। সারমেয়দ্বয় তাহাতে দমিল না, ক্রমাগত গর্জন করিতে লাগিল। অবস্থান নিরাপদ বুঝিয়া শাখামৃগটি তাহাদিগের উদ্দেশে ঝুলিতে ঝুলিতে মুখব্যাদান করিয়া ভেংচি কাটিতে লাগিল।

ঘটনাপ্রবাহ দেখিয়া মনুষ্যটির মুখের হাসি ফিরিয়া আসিল। ক্ষিপ্রপদে দুয়ারের আড়ালে সরিয়া গিয়া এই অপটু মানুষটি তার পটু চলভাষযন্ত্রটি বাহির করিয়া এই ত্রয়ীর একখানি চিত্র হস্তগত করিয়া নিল, এবং নিজের কীর্তিতে যারপরনাই খুশী হইয়া দন্তবিকাশ করিয়া দুয়ার বন্ধ করিল।

arbit_1